রাজধানীর আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির রাজনৈতিক জিঘাংসার জন্য হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি উঠেছে, অন্যদিকে হাসপাতালটির ভবিষ্যৎ এবং সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আদ-দ্বীনের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে ৬৮৪ জন নার্সসহ প্রায় ১,৬০০-এর বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে বিপুল সংখ্যক কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচার হওয়া উচিত, তবে এর প্রভাব যেন সাধারণ রোগী ও কর্মচারীদের ওপর না পড়ে সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
হাসপাতালটিতে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আইসিইউ ও অন্যান্য সংকটাপন্ন বিভাগে ভর্তি রোগীদের পরিবারগুলো বলছে, হঠাৎ করে হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেলে রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অনেকেই বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
একজন অভিভাবক জানান, তার সন্তান বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সেখানে থাকা রোগীদের নিরাপদ স্থানান্তর ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় রোগীদের কোনো ক্ষতি হলে তার দায় এড়ানো যাবে না।
এ ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে মতামত আসছে যে, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি বা দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগী, কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের স্বার্থও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এতে একদিকে যেমন ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবে, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমানো সম্ভব হবে।
