মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বাড়ি ভাঙচুর ও পিটুনি দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছেন স্থানীয় জনগণ। ময়মনসিংহের গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ১০টি এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ স্থানীয়রা আইন হাতে তুলে নিয়ে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে নান্দাইল উপজেলার সিংরুইল ইউনিয়নের উদং মধুপুর এলাকায় একটি মাদক ব্যবসায়ী পরিবারের বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাঞ্জু মিয়ার ছেলে আমীন মিয়া ও তার স্ত্রী ছামিলা খাতুন একটি মসজিদের পাশেই অবাধে মাদকের ব্যবসা করছিলেন। বারবার বাধা দেওয়ার পরেও তা বন্ধ না করায় এলাকার যুবসমাজ ওই মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি ভাঙচুর করে তাদের তাড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বিজয় ভুঁইয়া বলেন, আমীন মিয়া এলাকায় মাদকের ডিলার ও তার স্ত্রী ছামিলা খাতুন মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত। তাদের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীকে বাঁচাতে এই দম্পতিকে উচ্ছেদ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
অভিযানগুলোর ধরণ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের কারো কারো বাড়িঘর ভাঙচুর করে আসবাবপত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কাউকে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে প্রকাশ্যে মারধর করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ঘটনার ছবি আপলোড করা হচ্ছে। তবে কথিত ‘সচেতন যুবসমাজের’ নামে হওয়া এসব ঘটনা প্রতিরোধে থানা-পুলিশের তেমন কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি।
মাদক উচ্ছেদে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য, যাদের ওপর হামলা হয়েছে তারা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আবার মাদকের কারবার শুরু করে। এ কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের স্বজনদের দাবি, একজনের অপরাধের কারণে পুরো পরিবার বেকায়দায় পড়ছে।
এসব ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাউকে বক্তব্য নেওয়ার জন্য পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এমন ঘটনার কোনো তথ্য বা অভিযোগ তাঁদের কাছে নেই। এলাকাবাসীও কাউকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেনি। তবে কেউ যাতে আইন হাতে তুলে নিতে না পারে, সেজন্য পুলিশি তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।
