নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের শনিবার (১৩ জুন) নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার (১২ জুন) রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ মিয়া (৪০) এবং একই এলাকার শাহিন মিয়া। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী তাঁর স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সিরাব এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত ১০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি যখন রান্নাঘরে কাজ করছিলেন, তখন অভিযুক্ত শহীদ মিয়াসহ কয়েকজন তাঁর মুখ চেপে ধরেন। পরে সন্তানদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে পাশের একটি চারতলা ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সেই নির্জন কক্ষে নিয়ে ভুক্তভোগীর হাত ও মুখ বেঁধে আসামিরা পালাক্রমে তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্তরা তাঁকে ওই কক্ষে রেখে পালিয়ে যান। সন্ধ্যায় তাঁর স্বামী বাড়িতে ফিরে এলে তিনি পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন।
পরবর্তীতে গত শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই নজিরবিহীন ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মামলার বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
