জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান ‘পর্দা’ এবং নারী সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “পর্দা ইসলামের একটি অন্যতম ফরজ বিধান। এই মহান ও পবিত্র বিধান নিয়ে জাতীয় সংসদের মতো একটি দায়িত্বশীল স্থানে দাঁড়িয়ে মনিরুল হক চৌধুরী যে ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত এবং মুসলিমদের হৃদয়ে চরম আঘাত হানার শামিল।”
বিবৃতিতে জামায়াত নেতা উল্লেখ করেন, বাজেট আলোচনার নির্ধারিত বিষয়বস্তু থেকে বিচ্যুত হয়ে মনিরুল হক চৌধুরী রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করতে গিয়ে ২০০৪ সালের একটি পারিবারিক দাওয়াতের মনগড়া গল্প টেনে আনেন। এক পর্যায়ে তিনি উপস্থিত নারী সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তাঁদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে চরম আপত্তিকর ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, একজন আইনপ্রণেতার মুখ থেকে সংসদ অধিবেশনে এ জাতীয় অশালীন বক্তব্য কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। তাঁর এই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের কারণে সংসদের ভেতরে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং পুরো অধিবেশন কক্ষে এক নজিরবিহীন হট্টগোলের অবতারণা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করতে হয়েছে এবং বিতর্কিত বক্তব্যটি সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া হয়েছে। সংসদের মর্যাদা রক্ষায় স্পিকারের এই সময়োপযোগী অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছে জামায়াত।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার মনিরুল হক চৌধুরীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো উসকানিমূলক এবং নারীদের মর্যাদাহানিকর বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মহান সংসদের পবিত্রতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে সব সংসদ সদস্যকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার অনুরোধ করেন।
