চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত ৫ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের চিহ্নিত করা হয়। তবে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি এবং কোনো মামলাও দায়ের হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দুর্ধর্ষ ‘বড় সাজ্জাদ’ বাহিনীর অনুগত ‘রায়হান গ্রুপ’ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, খুনিদের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের কাছে শটগান ছিল। তারা মূলত বিএনপির স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং রাউজানের এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুগত হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী চিহ্নিত হওয়া ৫ ক্যাডার হলো— রাউজানের কদলপুরের মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, রাউজান পৌরসভার মোহাম্মদ ইউসুফ, রাউজান সদরের মোহাম্মদ জাহেদ ও মোহাম্মদ আবসার। ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে ইলিয়াস ও দিদারুল মাকসুদুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর বাকি তিনজন দৌড়ে গিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত এই সন্ত্রাসীদের অপরাধের খতিয়ান বেশ দীর্ঘ। রাউজান থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাহিনীর প্রধান রায়হানের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ২৪টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া দামা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ১৮টি এবং ইউসুফের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে। দিদার, জাহেদ ও আবছারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। মিশন শেষ করে তারা রাউজানের দুর্গম পাহাড়ি আস্তানায় পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন এবং ঘাটের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জোরালো আলোচনা সৃষ্টি করেছে। নিহত মাকসুদুল রাঙ্গুনিয়ার চম্পাতলী ঘাট এবং রাউজানের খেলার ঘাট এলাকার দুটি বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করতেন। পুলিশের তদন্তে এই বালু ব্যবসার বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম বলেন, “সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপকর্ম করে। আমি এসব খুনিকে ঘৃণা করি এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” অন্যদিকে রাউজানের এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরীও বলেন, “সরাধী যে দলেরই হোক, তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।”
গতকাল রোববার আসরের নামাজের পর রাঙ্গুনিয়ার চম্পাতলী ঈদগাহ মাঠে নিহত যুবদল নেতার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মানুষের ঢল নামে। জানাজার আগে বিএনপির স্থানীয় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খুনের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও পুলিশ চিহ্নিত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, এমনকি মামলাও নথিভুক্ত করা হয়নি।
রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, “অস্ত্র হাতে থাকা ৫ জনই বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর ক্যাডার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।” রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে আনুষ্ঠানিক পরিচয় প্রকাশ না করা হলেও খুনিদের আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
