রাজধানীর ওয়ারী থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলায় আলোচিত ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৫ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহফুজুর রহমান তৌহিদ আফ্রিদিকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার আরেক সন্দেহভাজন আসামি নিশাদুজ্জামান নিশাদের জিজ্ঞাসাবাদে এই প্রতারণায় আফ্রিদির প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
আদালতে শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম আবেদনের পক্ষে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভন গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের যুক্তি-তর্ক শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে হাজতখানায় নেওয়ার পথে তৌহিদ আফ্রিদির বাবা নাসির উদ্দিন সাথী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ছেলের জন্য দোয়া রাখবেন’।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি অনলাইন চক্র ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। পরে বিনিয়োগের নামে বিভিন্ন ধাপে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া শুরু হয়। শুরুতে কিছু টাকা ফেরত দিয়ে আস্থা অর্জনের পর চক্রটি বড় অঙ্কের টাকা নেয় এবং শেষ পর্যন্ত মুনাফাসহ মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে।
এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি নামের এক ভুক্তভোগী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ওয়ারী থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন, যার তদন্তে এখন তৌহিদ আফ্রিদির নাম জড়াল।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ২৪ আগস্ট বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক political (রাজনৈতিক) মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
