দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, নারী নির্যাতন, গর্ভপাতে বাধ্য করা, যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনায় গত এক সপ্তাহে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাধিক নেতাকর্মীর নাম সামনে এসেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অন্তত ১২টি ঘটনায় এসব সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মামলা, গ্রেপ্তার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থার তথ্য উঠে এসেছে।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা খালিদ পারভেজের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে তাকে নির্যাতন করা হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন ও যৌতুকের চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মহন তালুকদারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনায় মামলা হলেও তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. কাইয়ুম মালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পাবনার সাঁথিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ওয়ার্ড যুবদলের নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দলীয় পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় যুবদল নেতা শহীদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও একজন অভিযুক্তও আটক হয়েছেন।
নওগাঁর মহাদেবপুরে গৃহবধূ হাসিনা খাতুনকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী ও নেত্রকোনার আরও কয়েকটি ঘটনায় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, উত্যক্ত করা, হামলা ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
এসব ঘটনার কিছুতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিছুতে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
এক সপ্তাহে পরপর এমন অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
