নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা পপি আক্তার বাদী হয়ে নরসিংদীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন— মনোহরদী উপজেলার আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুল জব্বার এবং অর্জুনচর এলাকার মোক্তার উদ্দিন তালুকদার।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পপি আক্তারের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৭ মে দুপুরে অভিযুক্তরা পপির বিউটি পার্লারে গিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়াতে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
অভিযোগের বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান সরকার দোলন ভুক্তভোগীর কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন এবং তাঁর মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। অন্য দুই আসামি দোকানের ড্রয়ারে থাকা ৫২ হাজার টাকা এবং ভুক্তভোগীর গলা থেকে প্রায় আট আনার ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা পপি আক্তারকে উদ্ধার করে কটিয়াদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী পপি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসা শেষে তিনি মনোহরদী থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তাঁর লিখিত অভিযোগ বা মামলা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে কোনো উপায় না দেখে বাধ্য হয়ে গত ১৮ জুন তিনি আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা দোলনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা বা কোনো নারী থানায় এসে অভিযোগ করার বিষয়ে তিনি একেবারেই অবগত নন।
এদিকে মামলার বিষয়ে নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী মন্তব্য করেছেন যে, এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হতে পারে। আমিনুর রহমান সরকারকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্যই এই মামলা করা হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং বলেন যে তদন্তের পরই প্রকৃত সত্য জানা যাবে।
