বাংলাদেশে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের তৎপরতা রয়েছে—এমন দাবি নিয়ে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম ও হিন্দুত্ববাদী মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগপন্থি কয়েকজন বাংলাদেশি সাংবাদিকও এ বিষয়কে সামনে এনে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১২ মে ভারতের হিন্দুত্ববাদী থিংক ট্যাংক উসানাস ফাউন্ডেশন তাদের ওয়েবসাইটে ‘Hamas Beyond West Asia: Why Its Growing Links in Pakistan and Bangladesh Matter for India’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ঢাকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হামাসের নেতা ড. খালেদ কাদ্দুমি ও রাজনৈতিক শাখার প্রধান খালেদ মেশাল ভার্চুয়ালি বা সরাসরি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এর কিছুদিন পর ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার একটি সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাস-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিজেপি-ঘনিষ্ঠ টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভিকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে ইসরাইল বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের সম্ভাব্য তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছে।
এই বক্তব্যের সূত্র ধরে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিক নবনীতা চৌধুরী তার ইউটিউব চ্যানেলে হামাস নেতাদের বাংলাদেশ সফরের দাবি তুলে ধরেন। তবে তিনি তথ্যের নির্ভরযোগ্য কোনো উৎস উল্লেখ করেননি। একই সঙ্গে উসানাস ফাউন্ডেশনের নিবন্ধেরও কোনো উল্লেখ ছিল না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে হামাসের কোনো শীর্ষ নেতার সফরের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে পাকিস্তানের ধর্মীয় নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান ২০২৫ সালের নভেম্বরে খতমে নবুয়ত সম্মেলনে অংশ নিতে ঢাকা সফর করেছিলেন।
উসানাস ফাউন্ডেশনের নিবন্ধে বাংলাদেশে হামাসের প্রভাব বৃদ্ধির প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন ফিলিস্তিনপন্থি কর্মসূচি, হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ ও ইয়াহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ, এবং তাদের জন্য আয়োজিত গায়েবানা জানাজার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। নিবন্ধে দাবি করা হয়, এসব কর্মসূচি হামাসের প্রতি জনসমর্থন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
এছাড়া ফিলিস্তিনপন্থি সমাবেশগুলোতে ইসরাইলবিরোধী ও ভারতবিরোধী স্লোগান দেওয়ার ঘটনাও ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়। নিবন্ধে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, এ ধরনের আবেগ ভবিষ্যতে উগ্রপন্থি নিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, হিন্দুত্ববাদী মহল ও ভারতীয় কৌশলগত প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রচারণা, ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য এবং আওয়ামীপন্থি কিছু সাংবাদিকের উপস্থাপনা মিলিয়ে বাংলাদেশকে ঘিরে একটি নেতিবাচক বর্ণনা তৈরির চেষ্টা চলছে। তাদের মতে, হামাসের বাংলাদেশে সাংগঠনিক উপস্থিতির দাবির পক্ষে এখনো কোনো
