গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে আয়োজিত এই সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্র সংস্কার এবং আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সরকারের কাঁধে এখনো শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ভূত সওয়ার হয়ে আছে। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে।
জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, গণভোটের প্রশ্নে দলটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তার দাবি, গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে বিএনপি প্রচারণা চালিয়েছে। জনগণের দেওয়া সংস্কারমুখী ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করা সব রাজনৈতিক দলের নৈতিক দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশের সামনে বর্তমানে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হলো রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা। তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং দলীয়করণের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশের প্রধান অতিথি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে নতুন এক গণজাগরণ ও পরিবর্তনের আন্দোলন প্রয়োজন। তিনি আগামীর বাংলাদেশ গঠনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে সকালে খুলনায় পৌঁছালে ডা. শফিকুর রহমানকে সার্কিট হাউজে স্বাগত জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। পরে তিনি সমাবেশস্থলে যোগ দেন।
সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের উপস্থিতিতে সমাবেশটি বড় রাজনৈতিক জমায়েতে পরিণত হয়। বক্তারা ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।
