মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার একটি সালিশ বৈঠকে উত্তেজিত হয়ে টেবিল চাপড়ানো এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দেওয়ার ঘটনায় মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে সংসদ সদস্য হানজালা উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে কথা বলছেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?” পরে তিনি টেবিল চাপড়ে আরও বলেন, “এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।” তার এমন আচরণ ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনাটি শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি সালিশ বৈঠকে ঘটে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা বাদল মাতবর ও করিমা মাতবরের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে সালিশের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সালিশ সদস্য এবং উভয় পক্ষের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সালিশে অংশ নেন দত্তপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মারুফুল হাসান তারাও।
মারুফুল হাসান তারা দাবি করেন, সালিশের কার্যক্রম চলাকালে তিনি একজন সালিশ সদস্য হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে সংসদ সদস্য হানজালা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমপি বৈঠকে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ দিতে অনাগ্রহী ছিলেন এবং একাই পুরো বিষয়টি পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, “আমি সালিশ হিসেবে কথা বলায় তিনি রেগে যান এবং উচ্চস্বরে চিৎকার করেন। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে অবশ্য তিনি যাওয়ার সময় নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালিশ চলাকালে উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং পাল্টা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় উপস্থিত একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। একপর্যায়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে ধারণকৃত ভিডিওটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক মহলে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে আরও সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেন বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, সালিশ বৈঠকের উত্তপ্ত পরিবেশ সামাল দিতেই তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগের। তিনি দাবি করেন, স্থানীয়রা তার উপস্থিতি ছাড়া সালিশে বসতে রাজি ছিলেন না। পরে তিনি সেখানে গিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সালিশ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজন বারবার তর্কে জড়িয়ে পড়ছিলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এমপি হানজালা বলেন, “তারা বারবার প্যাঁচাপ্যাঁচি করছিল, তর্কে জড়াচ্ছিল। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচারটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং উভয় পক্ষই সমাধানে সন্তুষ্ট ছিল।”
ঘটনাটি পুরোনো হলেও ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
