আগামী দুই মাসের মধ্যে দৈনিক তেল উৎপাদন ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ইরাক। দেশটির তেল মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে ধুঁকতে থাকা দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করতে তেল উৎপাদন বৃদ্ধির এই বড় উদ্যোগ নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি।
ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সালিম ফারহুদ জানান, তেল উৎপাদনের হার ইতিমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরাকে কার্যরত অধিকাংশ বিদেশি কোম্পানি, বিশেষ করে চীনা কোম্পানিগুলো, বর্তমানে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি কোম্পানিগুলোর এই নিরবচ্ছিন্ন কাজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখছে।
সাধারণ পরিস্থিতিতে ইরাক প্রতিদিন প্রায় ৩৪ থেকে ৩৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে থাকে। তবে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরাকের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় বাধ্য হয়ে দেশটির বিভিন্ন তেলক্ষেত্রে উৎপাদনও এতদিন কমিয়ে রাখা হয়েছিল। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতেই এখন নতুন করে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উল্লেখিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে বিশ্ববাজারে শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে ধরে রাখবে ইরাক। ওপেকের (OPEC) অন্যতম প্রধান এই সদস্য দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি বিশ্ব তেলের বাজারেও বড় প্রভাব ফেলবে।
এক নজরে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশসমূহ
-
যুক্তরাষ্ট্র: প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল
-
সৌদি আরব: প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল
-
রাশিয়া: প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল
-
কানাডা: প্রতিদিন প্রায় ৫৬ লাখ ব্যারেল
