পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ মধ্যস্থতার ফলে লেবানন যুদ্ধ বন্ধের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন হ্রদের তীরবর্তী বার্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষে তিনি এই ইতিবাচক কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা জানান।
আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন, কাতার ও পাকিস্তানের নিরলস মধ্যস্থতার সুফল হিসেবে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির ওপর থাকা নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এছাড়া, চুক্তি ও আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের কিছু জব্দকৃত আর্থিক সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাও চালু করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এই কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রথম বাস্তব ও আসল পরীক্ষা (রিয়েল টেস্ট) হবে লেবাননকে কেন্দ্র করে গঠিত নতুন “ডিকনф্লিকশন সেল” (De-confliction Cell) বা সংঘাত-নিরসন সমন্বয় ব্যবস্থা। এই বিশেষ সেলটি লেবানন সীমান্তে সব ধরনের সামরিক অভিযানের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করবে।
সুইজারল্যান্ডের এই বহুপাক্ষিক বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের উপস্থিতিতে একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং লেবানন-সংক্রান্ত ডিকনফ্লিকশন মেকানিজম গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো মূল্যে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং নতুন করে সম্ভাব্য সংঘর্ষ প্রতিরোধ করা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে একটি পৃথক যোগাযোগ চ্যানেলও স্থাপন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে, বৈঠকে অংশ নেওয়া পক্ষগুলো আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে রাজনৈতিক ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রাখার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘রোডম্যাপ’ গ্রহণ করেছে। এই রোডম্যাপের অধীনে আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালু থাকবে।
