নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে গাজীপুরে যুবলীগের ব্যানারে অনুষ্ঠিত একটি মিছিলকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মিছিল চলাকালে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে ‘মাইরা ফালামু’ বলে হুমকি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
রোববার সকালে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন কলম্বিয়া গার্মেন্টস ও শাকিল এন্টারপ্রাইজ এলাকার সামনে থেকে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল মিছিল বের করে। মিছিলকারীরা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। তাদের বহন করা ব্যানারে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে’ এবং ‘২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল হোক’ লেখা ছিল। ব্যানারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান রাসেলের ছবিও দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলের একপর্যায়ে বিপরীত দিক থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এগিয়ে আসলে মিছিলকারীদের কয়েকজন উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ‘ওই, একটাও সামনে আসবি না, মাইরা ফালামু, মাইরা ফালামু।’ একইসঙ্গে ‘রাজপথ ছাড়ি নাই, শেখ হাসিনার ভয় নাই’ এবং ‘যুবলীগের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগানও দিতে দেখা যায়। প্রকাশ্যে পুলিশকে হুমকি দেওয়ার এমন দৃশ্য জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি আওয়ামী লীগকে ‘মাফিয়া সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে তাদের যেকোনো কার্যক্রম কঠোরভাবে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার পরও কেন এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হলো না। অনেকেই এটিকে বক্তব্য ও বাস্তবতার মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য হিসেবে উল্লেখ করছেন।
এদিকে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ জানিয়েছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে। এটি সাম্প্রতিক ঘটনার ভিডিও নাকি পুরোনো কোনো ভিডিও, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, সকালে একটি মিছিল হওয়ার তথ্য তারা পেয়েছেন এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাজ চলছে।
তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো গ্রেপ্তারের খবর না আসায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি প্রকাশ্য হুমকির ঘটনায় দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে আইনের শাসন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের অবস্থান কতটা কঠোর, সেটিও এখন জনআলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
