ঝালকাঠী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ফয়জুল হক অভিযোগ করেছেন, সংসদে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল তার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ফোনে হুমকি, ধমকি ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ফয়জুল হক দাবি করেন, সংসদে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে তিনি একটি স্ট্যাটাস প্রকাশ করেছিলেন। ওই পোস্ট প্রকাশের পর এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল তাকে ফোন, এসএমএস এবং হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে পোস্টটি মুছে ফেলার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। একই সঙ্গে তাকে ‘দেখিয়ে দেওয়ার’ হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফয়জুল হক বলেন, তিনি একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে রাজনৈতিক মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করেন। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বা মত প্রকাশ করা তার গণতান্ত্রিক অধিকার। অথচ এ কারণে একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন আচরণ পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
এর আগে প্রকাশিত ফেসবুক পোস্টে ফয়জুল হক সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের বিরুদ্ধে গত নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগও তোলেন। তিনি দাবি করেন, ঝালকাঠী-১ আসনের নির্বাচনে দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে রাত ১০টা পর্যন্ত তিনি এগিয়ে ছিলেন। পরে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও ‘ওপরের নির্দেশে’ তার প্রায় ৬ হাজার ভোট কেটে নিয়ে রফিকুল ইসলাম জামালকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় বড়ইয়া ইউনিয়নে তার ওপর হামলা হয়েছিল এবং সেই ঘটনার পেছনেও এমপি জামালের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন তার জীবননাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল এবং ওই ইউনিয়নের ভোট একতরফাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে নেওয়া হয়েছিল।
জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবির সমালোচনা করে ফয়জুল হক বলেন, যারা অতীতে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে, তারাই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগামী নির্বাচনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশঙ্কা থেকেই জামায়াতকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ফয়জুল হক আরও বলেন, ঝালকাঠী-১ আসনের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তার করা মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভোট কারচুপির অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
তবে ফয়জুল হকের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি, অন্যদিকে সেই দাবির বিরোধিতা করায় হুমকির অভিযোগ—দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।
