সাতক্ষীরা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে এবং চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করলে বিএনপি ও জামায়াতকেও কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, “জনগণ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে দেশছাড়া করেছে। আমরা যদি সুশাসন দিতে না পারি, তাহলে আমাদেরও পরিণতি কী হবে, তা ভেবে দেখা দরকার। তাদের যাওয়ার জায়গা আছে, কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই।”
বুধবার (২৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইজ্জত উল্লাহ বলেন, সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছে, যার মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, প্রকৃত ঘাটতি প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের ঋণের বোঝা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। শুধু সুদ পরিশোধেই চলতি অর্থবছরে ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এভাবে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে অর্থনীতি বড় সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ব্যাংক খাতের দুরবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো সরকারের চাহিদামতো ঋণ দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ না পেলে সরকারকে টাকা ছাপানোর পথেই যেতে হতে পারে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ঋণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম চালানোর প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ ১৫ বছরে ঋণ ৩০ লাখ কোটি টাকায় নিয়ে গেছে। একই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ১৫ বছরে তা ৬০ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কী হবে, তা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে।”
বিরোধী দলের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে ইজ্জত উল্লাহ বলেন, সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে, সমালোচনাও হবে। বিরোধী দলের বক্তব্যকে অসহিষ্ণুতার সঙ্গে দেখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “সরকার ও বিরোধী দল মিলেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ। দেশের মানুষের কল্যাণ, সুশাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। দেশের মানুষ যেন স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
