২৫ জুন: দেশে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন নতুন ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হচ্ছেন এবং ক্যান্সারজনিত কারণে মারা যাচ্ছেন প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জন। বর্তমানে দেশে আনুমানিক ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ জন ক্যান্সার রোগী জীবিত রয়েছেন অথবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোছা. সানজিদা ইয়াসমিনের প্রশ্নের উত্তরে আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা (আইএআরসি) প্রকাশিত গ্লোবোক্যান-২০২২ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মন্ত্রীর লিখিত জবাব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে নারীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সারের প্রকোপ বেশি, আর পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস এবং মুখ-ঠোঁটের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়। ক্যান্সার রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মাধ্যমে জনভিত্তিক (Population-based) এবং হাসপাতালভিত্তিক (Hospital-based) ক্যান্সার রেজিস্ট্রি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ক্যান্সার চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশের আটটি বিভাগীয় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা ইউনিট স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভাগীয় পর্যায়ে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি এবং সার্জিক্যাল অনকোলজি সেবা আরও বিস্তৃত হবে।
কমিউনিটি ক্লিনিক বাড়ানোর পরিকল্পনা
ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। যেসব ওয়ার্ডে এখনো কমিউনিটি ক্লিনিক নেই, সেখানে জমি প্রাপ্তি ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের ভিত্তিতে আরও ৫৪০টি নতুন ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
হাসপাতালে শত শত চিকিৎসা যন্ত্র অকেজো
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের ৩১০টি হাসপাতালে প্রায় ৪৮৫টি চিকিৎসা যন্ত্রপাতি অকেজো অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মেরামতের অযোগ্য, আর অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ মেরামতের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২৫২টি হাসপাতালে প্রায় ৩৯৫টি আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন অকেজো রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ মেরামতের অযোগ্য এবং ৬৫ শতাংশ মেরামতযোগ্য। এসব যন্ত্র মেরামতের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসক সংকট ও হাসপাতালের চাপ
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত চিকিৎসকের পদ ৪১ হাজার ৮০৬টি হলেও বর্তমানে ৯ হাজার ৪০৭টি পদ শূন্য রয়েছে।
অন্যদিকে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যার তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে হাসপাতালের টয়লেটসহ সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যু ও ক্ষতিপূরণ
নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবিরের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে আনুমানিক ৪ হাজার ৩৫৩ জন মা সন্তান প্রসবকালে মৃত্যুবরণ করেন। প্রসবকালীন কোনো মাতৃমৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান নেই বলেও তিনি জানান।
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ বাড়ছে
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার ক্রমেই বাড়ছে। অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মানব ও প্রাণী খাতে অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের কারণে এ সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠছে।
তিনি জানান, জীবাণু শনাক্তকরণ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রস্তুতি
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে দ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এই নিয়োগের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
