জাতীয় সংসদে আলোচনার সময় উর্দু ভাষা প্রসঙ্গ টেনে রসিকতা করেছেন সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “এখানে বসে বসে অনেকখানি উর্দু শিখে ফেলেছি।”
এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও আর্থিক খাতের সংকট নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ একীভূত করা পাঁচটি ব্যাংকের সাবেক মালিকরা ব্যাপক লুটপাট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে ফেলেছেন। অথচ ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮ নম্বর ধারায় এমন সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে তারা মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ অর্থ ফেরত দিয়েই আবার মালিকানা ফিরে পেতে পারেন। তার প্রশ্ন, যারা ব্যাংকগুলোকে সংকটে ফেলেছে, তাদের কাছে আবার মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়?
আখতার হোসেন আরও দাবি করেন, আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় অর্থমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনায় প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। তিনি প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে মধ্যবিত্তের জন্য “মরণফাঁদ” এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য “পথের ফকির বানানোর বাজেট” বলে অভিহিত করেন।
তার বক্তব্যে উঠে আসে অর্থ পাচার ও ঋণ পরিস্থিতির বিষয়ও। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় প্রকাশিত শ্বেতপত্র অনুযায়ী দেশ থেকে প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের মোট ঋণ ছিল ২৩ লাখ কোটি টাকা, যা কয়েক মাসের ব্যবধানে বেড়ে ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। খেলাপি ঋণের কারণে বর্তমান সংসদের দুই সদস্য এখনও শপথ নিতে পারেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় ব্যাংক খাতের সংস্কার, অর্থ পাচার, ঋণের বোঝা এবং আর্থিক জবাবদিহিতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
