চীন তাদের নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়াতে সাংহাইয়ের একটি অত্যাধুনিক জাহাজ নির্মাণ কারখানায় নতুন প্রজন্মের একটি সাবমেরিন উন্মোচন করেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাময়িকী ‘মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন’-এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উন্মোচিত এই নতুন সাবমেরিনটির সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্য বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা না হলেও, এর বাহ্যিক নকশায় বেশ কিছু যুগান্তকারী ও নতুন বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করেছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
এই নতুন সাবমেরিনটির অন্যতম প্রধান এবং বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর লেজে যুক্ত করা ‘এক্স-আকৃতির’ (X-shaped) রাডার ও রাডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এটি চীনের প্রচলিত ও সাধারণ সাবমেরিনগুলোর চিরাচরিত নকশার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আধুনিক। নতুন সাবমেরিনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ মিটার, যেখানে চীনের অধিকাংশ আধুনিক সাবমেরিনের গড় দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে প্রায় ১১০ মিটার। এই বাড়তি দৈর্ঘ্যের কারণে সাবমেরিনটিতে আরও বেশি যুদ্ধাস্ত্র ও উন্নত যোগাযোগ সরঞ্জাম বহন করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই সাবমেরিনটিতে চীনের সর্বাধুনিক এবং শক্তিশালী ‘টাইপ-০৯৫’ (Type-095) শ্রেণির সাবমেরিনের কিছু অত্যন্ত উন্নত ও গোপন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়ে থাকতে পারে। সম্ভাব্য এসব প্রযুক্তির মধ্যে অন্যতম হলো চৌম্বকীয় চালনা ব্যবস্থা (Magnetic Propulsion System) এবং রিম-ড্রাইভ থ্রাস্টার বা পাম্প-জেট চালনা প্রযুক্তি। এর পাশাপাশি সাবমেরিনটিতে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক শব্দ ও কম্পন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, এই পাম্প-জেট ও উন্নত শব্দ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে পানির নিচে চলাচলের সময় সাবমেরিনটির নিজস্ব শব্দমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এর ফলে গভীর সমুদ্রে অত্যন্ত নিখুঁত ও নিঃশব্দে চলাচলের সময় শত্রুপক্ষের শক্তিশালী সোনার (Sonar) বা সনাক্তকরণ রাডার এড়িয়ে এটি খুব সহজেই নিজের অবস্থান গোপন রাখতে পারবে, যা চীনের নৌ-প্রতিরক্ষাকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে।
