কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হরিপুরে গড়াই নদীর একটি অবৈধ বালুঘাট দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে হরিপুর ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ সময় ফরিদ হোসেন নামে এক যুবককে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৬ রাউন্ড গুলিসহ আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গড়াই নদীর পাড়ে অবস্থিত একটি অবৈধ বালুঘাটের একক নিয়ন্ত্রণ ও দখল নেওয়া নিয়ে হরিপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শিমুল এবং যুবদল নেতা শিপন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ ও চাপা উত্তেজনা চলছিল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে ফুলতলা এলাকায় উভয় গ্রুপের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত দুজন আহত হন, যাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালীন শিপন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ফরিদ হোসেনকে পিস্তল হাতে দেখে স্থানীয় জনতা তাকে চারপাশ থেকে ঘেরাও করে গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে গণপিটুনি দেওয়া অবস্থায় কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ ফরিদের দেহ তল্লাশি করে একটি সচল আগ্নেয়াস্ত্র (পিস্তল) এবং ৬ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হরিপুরে বালুঘাট কেন্দ্রিক দুই গ্রুপের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা ও সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে এবং অস্ত্র-গুলিসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার মূল কারণ ও এর নেপথ্যে কারা জড়িত তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আটক ফরিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
