আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘Run Against Drugs’ কর্মসূচি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘Save the Youth, Save the Nation’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সংগঠনের সপ্তাহব্যাপী মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ‘Youth Against Drugs’-এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ অংশ নেন।
উদ্বোধনী সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম মাদকের বিস্তারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, মাদক একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি, যা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে ডেডিকেটেড অধিদপ্তর ও পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরি করলেও দেশে মাদকের ভয়াবহতা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মাদকের এই বিশাল সিন্ডিকেটের পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে দায়ী করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি অবিলম্বে মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের কঠোর ও কার্যকর প্রয়োগের ওপর জোর দেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত ও জাহিদুল ইসলাম। সাবেক সভাপতিরা তাঁদের বক্তব্যে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধের আহ্বান জানান। তাঁরা দাবি করেন, ছাত্রশিবিরের ফর্মুলা ও নৈতিক আদর্শ অনুসরণ করলে যুবসমাজকে শতভাগ মাদকমুক্ত রাখা সম্ভব। এ সময় কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে ‘Run Against Drugs’ স্লোগানে একটি ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সচেতনতামূলক দৌড় শুরু হয়। দৌড়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, ভিসি চত্বর ও ফুলার রোডসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারী তরুণরা মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ এবং রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
