বুরকিনা ফাসো আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার যে মৌলিক নীতির ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালিত হওয়ার কথা, সেই শর্তগুলো আর বিদ্যমান নেই। ফলে ২৬ জুন থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ‘নব্য উপনিবেশবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা এবং সাহেল অঞ্চলে ‘ধ্বংসাত্মক নেটওয়ার্ক ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে’ সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফ্রান্স এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সিদ্ধান্তটিকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘শত্রুতাপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার সর্বশেষ ধাপ। এর আগে ২০২৩ সালে বুরকিনা ফাসো ফরাসি সেনাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। এরপর ২০২৪ সালে একাধিক ফরাসি কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয় এবং ২০২৫ সালে দেশটি ফ্রাঙ্কোফোনি জোট থেকেও নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।
বুরকিনা ফাসোর সামরিক সরকার ২০২২ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর, বিশেষ করে ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমাগত শীতল করে আসছে। একই সময়ে দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করেছে এবং সাহেল অঞ্চলে নিজেদের নতুন কূটনৈতিক অবস্থান গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
বুরকিনা ফাসো সরকার স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্ত কেবল দুই দেশের রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফ্রান্সের জনগণের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও সামাজিক সম্পর্ককে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত ফরাসি নাগরিকদের প্রতি সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
