তুরাগ ও আশুলিয়া সীমান্তবর্তী তুরাগ নদী এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কথিত মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত নৌকাডুবি ও মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নানা ধরনের তথ্য, দাবি ও পাল্টা দাবি সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, কয়েকটি ট্রলার ও নৌকায় করে একটি দল নদীপথে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের অনেককে ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। তবে এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই বা সরকারি কোনো সংস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বাম নেত্রী শেখ তাসনিম আফরোজ (ইমি) এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তুরাগ গণহত্যা’ শিরানোমে একাধিক গুজব ছড়ালেও এখনপর্যন্ত কাউকেই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ তুরাগ থানা এলাকার হলেও তারা আশুলিয়া থানা-সংলগ্ন নদীপথে অবস্থান করছিলেন। আগের দিন থেকেই ট্রলারে সমবেত হয়ে স্লোগান ও শপথ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন আগে থেকেই অবগত ছিল বলেও এলাকাবাসীর দাবি। তবে এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ঘটনার দিন পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে কয়েকটি ট্রলার দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তি তড়িঘড়ি করে চলন্ত ট্রলারে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে নদীতে পড়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, ট্রলারে থাকা কয়েকজন নেতা-কর্মী নদীতে পড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধার না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে পুলিশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করলেও অন্যদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় উদ্ধার অভিযান বিলম্বিত হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হয়নি।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এক কিশোরের মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন দাবি—যেখানে তাকে রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছে বা পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে—এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এক পক্ষের দাবি, এটি ছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংগঠিত একটি সমাবেশ। অন্যদিকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়, মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা ধরনের তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তবে এসব তথ্যের বড় অংশই এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।
এ ঘটনায় ঠিক কতজন নদীতে পড়েছিলেন, কতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং কোনো অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটেছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
