শ্রীলঙ্কা জামায়াতে ইসলামীর (SLJI) নতুন আমির হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাটর্নি-অ্যাট-ল’ আশ-শাইখ জামালদীন মোহাম্মদ আশরাফ (নালিমী)। শনিবার (২৭ জুন) ক্যান্ডির পোলগোল্লায় অবস্থিত NICD অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির ন্যাশনাল মেম্বার কনভেনশন (NMC) ২০২৬-এ তাকে সংগঠনের নবম আমির হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
তিনি ২০১৮ সাল থেকে টানা দুই মেয়াদে আমিরের দায়িত্ব পালন করা উস্তায মোহাম্মদ উসাইর ইসলাহির স্থলাভিষিক্ত হন। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগঠনের সদস্য ও নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
আকুরানার বাসিন্দা আশ-শাইখ জামালদীন মোহাম্মদ আশরাফ (নালিমী) মাতালের জাহিরা কলেজে সাধারণ শিক্ষা গ্রহণের পর ১৯৯০ সালে বেরুয়ালার জামিয়্যাহ নালিমিয়্যায় ভর্তি হন। সেখানে আরবি ভাষা ও ইসলামী শরিয়াহ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ১৯৯৭ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে তিনি কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে এলএল.বি. এবং পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি অ্যাটর্নি-অ্যাট-ল’ হিসেবে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
২০০১ সালে শ্রীলঙ্কা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের পর তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় শূরা, নির্বাহী পরিষদ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সাল থেকে গত প্রায় আট বছর তিনি সহকারী আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট, সামাজিক সংস্কার, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিভাগের নেতৃত্ব দেন এবং দাওয়াহ, শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সংগঠনের বাইরে তিনি আকুরানা জামিয়্যতুল উলামার শূরা সদস্য, অল সিলন জামিয়্যতুল উলামা (ACJU)-এর কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য এবং ওয়াক্ফ বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০১৭–২০১৮ সালে আকুরানা মসজিদ ফেডারেশন ও আকুরানা জামিয়্যতুল উলামার যৌথ উদ্যোগে গঠিত শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি মালয়েশিয়া, তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। এসব সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইসলামী চিন্তাধারা, কমিউনিটি উন্নয়ন এবং সাংগঠনিক নেতৃত্ব বিষয়ে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীলঙ্কা জামায়াতে ইসলামী গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, মানবিক সেবা, যুব ও নারী উন্নয়ন এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টে কাজ করে আসছে। নতুন আমিরের নেতৃত্বে সংগঠনটি শ্রীলঙ্কায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় ঐক্য এবং সকল সম্প্রদায়ের কল্যাণে কাজ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
