‘নিরাপদ ভবিষ্যতের খোঁজে’ অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক বাংলাদেশি দম্পতি। শুক্রবার (২৬ জুন) ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শান্তিরবাজার মহকুমার দেবদারু নামক এলাকা থেকে স্থানীয় পুলিশ সান্তনু দেবনাথ ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত সান্তনুর বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলায়।
ত্রিপুরা পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবদারু পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দেবদারু এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় ওই দম্পতির আচরণ, কথাবার্তা ও ভাষাগত তারতম্য দেখে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁদের কাছে ভারতের কোনো বৈধ পরিচয়পত্র বা নাগরিকত্বের নথিপত্র দেখতে চাওয়া হলে তাঁরা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এরপর তাঁদের আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
টানা জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁরা স্বীকার করেন যে তাঁরা মূলত বাংলাদেশের নাগরিক। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও দুটি বাংলাদেশি সিম কার্ড উদ্ধার করে পুলিশ। সান্তনু দেবনাথ পুলিশকে জানান, বাংলাদেশে ‘চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির’ মুখে পড়ে বাধ্য হয়েই তাঁরা ভারতীয় আইনের কঠোরতা জানা সত্ত্বেও এই চরম ঝুঁকি নিয়েছেন। তবে বাংলাদেশে ঠিক কী ধরনের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
সীমান্ত পার হওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে সান্তনু দেবনাথ জানান, কলেজ জীবনের একটি পিকনিকে খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী মাটিরাঙ্গা এলাকায় গিয়ে তিনি জানতে পেরেছিলেন যে ওই পথ দিয়ে ভারতে পার হওয়া যায়। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই দম্পতি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে নয়, বরং ত্রিপুরার গোমতী জেলার শিলাছড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিলেন।
ত্রিপুরা পুলিশ জানিয়েছে, এই দম্পতিকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তাঁরা কোনো দালালের মাধ্যমে বা কীভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পুলিশি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
