পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল শোডাউনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার কালাইয়া বন্দরের নিজ বাসার সামনে থেকে বাউফল থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেলের একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় উপজেলার মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন, শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রাসেলসহ অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া হামলাকারীরা শোডাউনে থাকা প্রায় ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
ঘটনার পর গুরুতর আহত দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন বাদী হয়ে বাউফল থানায় হত্যা চেষ্টা এবং বিস্ফোরক দ্রব্যের আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রশিবির নেতা ইমরান হোসেন ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের একজন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হামলার ঘটনার পর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের ধরতেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন বা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
