স্বপ্নের বিশ্বকাপ অভিযান দারুণভাবে এগিয়ে নিচ্ছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। একজন ফুটবলার কম নিয়েও তারা হার মানেনি; বরং দুর্দান্ত লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়ে বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলোর টিকিট। সান ফ্রান্সিসকোর দর্শকভরা গ্যালারিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় আমেরিকানরা।
বাংলাদেশ সময় আগামী ৭ জুলাই শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত কোনো গোল না এলেও ২৪ মিনিট পর্যন্ত ৭৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সে সময় নেওয়া দুটি শটের কোনোটিই লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকরা।
অবশেষে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ৪৫তম মিনিটে মালিক টিলম্যানের শুরু করা আক্রমণে বল বসনিয়ার দুই ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফ্লোরিয়ান বালোগানের সামনে চলে আসে। সুযোগ বুঝে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজকে পরাস্ত করে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে বসনিয়া। তবে ৫২তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় দলটি, যখন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এডিন জেকো চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপরও আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে ইউরোপের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৬১তম মিনিটে। বলের দখল নিতে গিয়ে বালোগান ও মুহারেমোভিচ মাটিতে পড়ে গেলে রেফারি ভিএআরের সাহায্য নেন। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ৬৫তম মিনিটে বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় যুক্তরাষ্ট্র।
সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগাতে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় বসনিয়া। দেমিরোভিচ ও বাজারাকতারেভিচ সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পাননি। অন্যদিকে, একজন কম নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ ছিল অসাধারণ সংগঠিত।
৭৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছে ভেবেছিল স্বাগতিকরা। সের্জিনো ডেস্টের পাস থেকে বল জালে জড়ান ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
তবে হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৮২তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন মালিক টিলম্যান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার বাঁকানো শট গিয়ে জড়িয়ে পড়ে জালের ডান কোণায়। বসনিয়ার গোলরক্ষক ঝাঁপিয়েও বল ঠেকাতে পারেননি। চোখধাঁধানো সেই গোলের পর উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।
বাকি সময়ে আর কোনো নাটক হয়নি। ১০ জন নিয়েও দুর্দান্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র।
১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল আমেরিকানরা। এরপর তাদের সেরা সাফল্য ছিল ২০০২ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো। এবারও সেই ইতিহাস ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন দেখছে স্বাগতিকরা। তবে সেই স্বপ্নের পথে পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দল বেলজিয়াম।
