নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক হয়েছেন আশরাফ উদ্দিন নামে এক যুবদল নেতা। অনৈতিক এ ঘটনার জের ধরে তাকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে নোয়াখালী জেলা যুবদল।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক রাইসুল হায়দার বাবুর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের একটি ঘর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ওই নারীসহ হাতেনাতে আটক করেন।
বহিষ্কৃত আশরাফ উদ্দিন হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইল মাঝির ছেলে।
জেলা যুবদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়ায় আশরাফ উদ্দিনকে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। একই সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তার ব্যক্তিগত কোনো অপকর্মের দায়ভার দল নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে আশরাফ উদ্দিন নোয়াখালী সদর থেকে এক নারীকে নিয়ে জাহাজমারা ইউনিয়নের ল্যাংড়া তেমুনী এলাকার একটি নির্জন ঘরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন ওই ঘরটি ঘেরাও করে তাদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেন। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয় এবং জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে রাত ১১টার দিকে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির মধ্যস্থতায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ঘটনাটি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্থান ত্যাগ করায় সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
