জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, জাদুঘরে প্রদর্শিত শহীদ ফেলানীর স্মারক (মনুমেন্ট) সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা (বর্ডার কিলিং) বিষয়ক একটি প্রদর্শনী কক্ষও আর আগের অবস্থায় নেই বা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বিত হচ্ছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ এই বিলম্বের সঙ্গে জাদুঘরের প্রদর্শনীতে পরিবর্তনের বিষয়টি যুক্ত করে নানা অভিযোগ তুলছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নথি বা স্বাধীন তদন্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
কিছু পোস্টে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন রাজনৈতিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকি জাদুঘরের উদ্বোধন বিলম্বিত হওয়া কিংবা নির্দিষ্ট প্রদর্শনী অপসারণের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোরও স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবিও করা হয়েছে যে, কয়েকজন দর্শনার্থী জাদুঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেও অনুমতি পাননি। তাদের অভিযোগ, জাদুঘরটি এখনও সর্বসাধারণের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়নি। তবে দর্শনার্থী প্রবেশসংক্রান্ত নীতিমালা বা উদ্বোধনের সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
উল্লেখ্য, শহীদ ফেলানী সীমান্তে নিহত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত হত্যা ইস্যুর একটি প্রতীক হিসেবে আলোচিত। ফলে তার স্মারক বা এ-সংক্রান্ত কোনো প্রদর্শনীতে পরিবর্তনের দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে মনুমেন্ট সরানো হয়েছে কি না, বর্ডার কিলিং বিষয়ক প্রদর্শনী কক্ষে কী পরিবর্তন এসেছে এবং এর কারণ কী—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সরকারি বক্তব্য বা নিরপেক্ষভাবে যাচাইকৃত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
