ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির এক মারাত্মক আত্মঘাতী ড্রোন নামিয়েছে রাশিয়া। ‘মোলনিয়া’ নামের এই স্ট্রাইক ড্রোনটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং এটি কোনো ধরনের রেডিও সংযোগ ছাড়াই পরিচালনা করা সম্ভব। ফলে প্রচলিত সিগন্যাল জ্যামিং বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করে এই ড্রোনকে থামানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা একটি রুশ ‘মোলনিয়া’ ড্রোন পরীক্ষা করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছেন। ড্রোনটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এতে কোনো ধরনের প্রচলিত কন্ট্রোল অ্যান্টেনা বা রেডিও যোগাযোগের মাধ্যম নেই। এর বদলে ড্রোনটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) পরিচালিত একটি অ্যাডভান্সড ফ্লাইট কম্পিউটার এবং পথ চেনার জন্য কেবল একটি ক্যামেরা মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উৎক্ষেপণের পর ড্রোনটি পূর্বনির্ধারিত জিপিএস বা মানচিত্রের পথ ধরে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে শুরু করে। এরপর এর ভেতরে থাকা নিজস্ব ‘নিউরাল নেটওয়ার্ক’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কোনো দূরবর্তী মানব অপারেটরের নির্দেশ ছাড়াই নিজে নিজেই যুদ্ধক্ষেত্রের লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করে। লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করার পর এটি নিখুঁতভাবে তার ওপর আঘাত হানতে সক্ষম।
এই ড্রোনটির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এর রেডিও সংকেতহীনতা। ড্রোনের সাথে অপারেটরের কোনো রেডিও তরঙ্গের আদান-প্রদান না থাকায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার সিগন্যাল শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা রাডার একে সহজে ধরতে পারে না। একই কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা শক্তিশালী ‘ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার’ বা সিগন্যাল জ্যামারও এই ড্রোনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্টনভ এই নতুন সংকটের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও জ্যামিং ফাঁদগুলোকে ফাঁকি দিতে রুশ বাহিনী ব্যাপকভাবে এই এআই-চালিত স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবহার করছে, যা ইউক্রেনীয় সামরিক কমান্ডের জন্য নতুন এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
