রানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের মোসাল্লা এলাকায় হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছেন। উপস্থিত জনতার অনেককে ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। তেহরানে অবস্থানরত এএফপির এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, খামেনির মরদেহবাহী কফিন মোসাল্লা প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর আগেই সেখানে মানুষের ঢল নামে। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকের হাতে লাল পতাকা ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। ইরানে লাল রংকে সাধারণত প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিশাল ধর্মীয় কমপ্লেক্সটিতে কফিন স্থাপনের পর ধর্মীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশি অতিথি এবং সাধারণ শোকাহত মানুষ একে একে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। উল্লেখ্য, পাকিস্তান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।
এ ছাড়া ইরাক, আর্মেনিয়া, তুরস্ক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছেন। এসব দেশের মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন তেহরানকে আলী খামেনির দাফনের জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে এবং এ সিদ্ধান্ত ‘সদিচ্ছা’ থেকেই নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শুরুর দিকে নিহত হন। তার মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর রাষ্ট্রীয়ভাবে দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
