রাজধানীর গুলিস্তানে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ মিছিলে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বিএনপি সমর্থকেরা। আজ শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ছুরিকাঘাতে একজন শীর্ষ নেতাসহ জামায়াতের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গুলিস্তান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ও চাঁদাবাজ গ্রুপ চাঁদাবাজি এবং মার্কেট দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। সাধারণ ব্যবসায়ীদের রক্ষায় জামায়াতের স্থানীয় নেতারা পাশে দাঁড়ালে তাদের ওপর ক্ষোভ তৈরি হয়। আজ বিকেলে ফুলবাড়িয়ায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে জামায়াত ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিলে জড়ো হলে যুবদল ও বিএনপির শতাধিক ক্যাডার অস্ত্র, ছুরি, হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এই হামলায় সবচেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন মো. কবির আহমেদ (৪৫) নামে এক জামায়াত নেতা। তিনি গুলিস্তান শপিং মার্কেট ইউনিট জামায়াতের সভাপতি, দলের রোকন এবং পেশায় একজন মোবাইল পার্টস ব্যবসায়ী। সংঘর্ষের একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তার কোমরের পেছনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গভীর আঘাত করে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
জামায়াত নেতা কবির আহমেদ ছাড়াও হামলায় ছুরিকাঘাতে আরও দুই কর্মীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই হামলায় যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রনজু, মামুন কমিশনার, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি ডালিম ছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগেরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতা অংশ নিয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত এক জামায়াত নেতাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈকত হোসেন জানান, ঘটনার পর পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুরো এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
