বাগেরহাটে সরকারি দেলভাষাণী খাল দখলমুক্ত করতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বাধার মুখে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে জেলা প্রশাসন। স্বয়ং সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে এই বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত এক বছর ধরে ছাত্রদল, যুবদল ও তাদের দলীয় লোকজনই এই সরকারি খালটি ভোগদখল করছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের গোমতি এলাকায় দেলভাষানি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদে পূর্বনির্ধারিত অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ মোসা. আতিয়া খাতুনসহ সরকারি কর্মকর্তা ও উচ্ছেদকারী শ্রমিকরা উপস্থিত হন।
উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর আগেই সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পথরোধ করেন এবং খাল না কাটার জোর দাবি জানান। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ এবং জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন পৌঁছালে তাদের সামনেও ছাত্রদল ও যুবদলের দখলের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দখলদারদের দাবি, সরকারি খাল আটকে মাছ চাষে তাদের পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে, তাই এখন খাল কাটলে তারা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
তবে খোদ বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজী নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে খাল দখল করেননি। বরং ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত এক বছর ধরে স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির দলীয় লোকজনই এই খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তা ভোগদখল করে আসছে।
এদিকে খালের এই দলীয় দখলের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের কাছে অবিলম্বে খালটি দখলমুক্ত করার জোর দাবি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল ও যুবদলের প্রভাবশালীরা সরকারি খাল আটকে মাছ চাষ করার কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে এবং কৌশলগত কারণে প্রশাসন তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করে। দখলদার ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের খালের মাছ তুলে নেওয়ার জন্য আগামী ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, মানবিক ও কৌশলগত কারণে এই দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে, তবে নির্ধারিত সময় শেষ হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে প্রাকৃতিক জলাধারটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
