গুলিস্তানে ব্যবসায়ীদের ওপর ‘চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার’ প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ‘চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি’।
রোববার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট এবং স্টেডিয়াম মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ী, দোকান কর্মচারী ও জামায়াতে ইসলামী-সংশ্লিষ্ট বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী অংশ নেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পল্টন মোড়, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড প্রদক্ষিণ করে বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট হয়ে আবার গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
শ্রমিক নেতা আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা শাহীন আহমেদ খান, আহসান হাবীব, অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক চৌধুরী, মাওলানা শরিফুল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলামসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, সন্ত্রাসী, দখলদার ও চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গুলিস্তানের ব্যবসায়ীরা শনিবার বিকেলে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু মিছিল শুরুর আগেই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী কবির হোসেনসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা চিহ্নিত হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে ব্যবসায়ী সমাজের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, পুলিশের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে তারা জনগণের নিরাপত্তার পরিবর্তে দখলদার, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের সুরক্ষা দিচ্ছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সভাপতির বক্তব্যে শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা কোনো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজকে দেখতে চাই না। কোনো রাজনৈতিক দল যদি সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাহলে তাদের পরিণতিও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো হবে।’
তিনি গুলিস্তানে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। যারা আজ একই পথে হাঁটবে এবং জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালাবে, তারাও টিকে থাকতে পারবে না।’
আব্দুস সালাম বলেন, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে তাকে অপরাধী হিসেবে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
