নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের একটি বিতর্কিত ফোনালাপের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে তাকে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করার হুমকি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে রাজনৈতিক সখ্য বজায় রাখার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতে দেখা যায়।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে মুঠোফোনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সাথে কথা বলতে শোনা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি ওয়ালারা আমার ক্ষতি করতাছে। নির্বাচনের পর ওগরে মামলা দিয়া দৌড়ামু। আর আওয়ামী লীগ ওয়ালাগো কোলে লইয়া নাচমু, চিন্তা কইরেন না।’ তাঁর এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও সাধারণ দলীয় কর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ভাইরাল ভিডিওটির বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং দলীয় শৃঙ্খলার চরম পরিপন্থি। তিনি জানান, ভিডিওটি তিনি এখনো সরাসরি দেখেননি। তবে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওর সত্যতা নিবিড়ভাবে যাচাই সাপেক্ষে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, দলের কোনো পর্যায়ের নেতার কাছ থেকেই এমন অপেশাদার বা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কখনোই কাম্য নয়, যা দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ভিডিওটি না দেখে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে জাহাঙ্গীর আলম যদি সত্যিই এমন কথা বলে থাকেন, তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া মাত্রই দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনানুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
