প্রত্যেক মুসলমানই শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্ররোচনা থেকে নিরাপদ থাকতে চান। কিন্তু নানা সময় শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ পাপ ও অপরাধে জড়িয়ে যায়, যার ফলে আমলনামায় গোনাহের পরিমাণ বাড়তে থাকে। অথচ একটি বিশেষ আয়াত নিয়মিত পাঠের মাধ্যমে শয়তানের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষিত থাকার সুসংবাদ দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সেই আয়াতটি হলো আয়াতুল কুরসি, যা সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়াতুল কুরসিকে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দিনে ও রাতে এ আয়াত পাঠ করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সকালে এ আয়াত পাঠ করলে সারাদিন এবং সন্ধ্যায় পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
আবু হুরায়রা (রা.) ও শয়তানের ঘটনা
সহিহ বুখারিতে বর্ণিত আছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে রমজানের সদকার খেজুর পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এক রাতে একজন অচেনা ব্যক্তি এসে খেজুর নিতে শুরু করলে তিনি তাকে আটক করেন। লোকটি নিজের দারিদ্র্য ও পরিবারের অভাবের কথা বলে মুক্তি চাইলে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দেন।
পরদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার বন্দির কী হলো?’ তিনি ঘটনা জানালে নবী (সা.) বলেন, ‘সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে, সে আবারও আসবে।’
দ্বিতীয় রাতেও একই ঘটনা ঘটে। লোকটি আবারও ধরা পড়ে এবং অভাবের কথা বলে মুক্তি পেয়ে যায়। পরদিন রাসুল (সা.) আবারও বলেন, ‘সে মিথ্যা বলেছে, সে আবার আসবে।’
তৃতীয় রাতেও লোকটি এসে খেজুর নিতে গেলে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ধরে ফেলেন। তখন সে বলে, ‘আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে এমন কিছু শিক্ষা দেব, যা আপনার জন্য উপকারী হবে।’
সে বলল, ‘যখন আপনি ঘুমাতে যাবেন, তখন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আয়াতুল কুরসি পড়বেন। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান আপনার কাছে আসতে পারবে না।’
পরদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ঘটনা শুনে বলেন, ‘সে তোমাকে সত্য কথা বলেছে, যদিও সে বড় মিথ্যাবাদী।’ এরপর তিনি জানান, তিন রাত ধরে যার সঙ্গে আবু হুরায়রা (রা.) কথা বলেছেন, সে ছিল শয়তান। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩১১)
আয়াতুল কুরসির উচ্চারণ
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়্যুম। লা তা’খুজুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাওম। লাহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইন্দাহু ইল্লা বিইজনিহি। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম। ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা’আ। ওয়াসিয়া কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজিম।
আয়াতুল কুরসির অর্থ
আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও সমগ্র সৃষ্টির ধারক ও পালনকর্তা। তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে না। তিনি মানুষের সামনে ও পেছনের সবকিছু জানেন। তাঁর জ্ঞানের কোনো অংশই কেউ আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন ততটুকু ছাড়া। তাঁর কুরসি আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং সেগুলোর সংরক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ এবং মহান।
