পশ্চিমা সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে এবং বিশ্বজুড়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে রাশিয়া ও চীন গোপনে এক বিশাল সামরিক সহযোগিতা গড়ে তুলেছে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল নথির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ পেয়েছে।
নথি অনুযায়ী, মহাকাশে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে যৌথভাবে একটি অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দেশ দুটি।
ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা গেছে, দুই দেশের শীর্ষ সামরিক ও প্রযুক্তি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি অত্যন্ত গোপন ফোরাম এই এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। যেখানে স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইটকে জ্যাম, হ্যাক বা সরাসরি ধ্বংস করার জন্য একটি ‘অ্যান্টি-স্টারলিঙ্ক অ্যালায়েন্স’ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে চীন।
মহাকাশ ও সাইবার যুদ্ধের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সামরিক ক্ষেত্রেও এই দুই দেশের মেলবন্ধন আরও গভীর হয়েছে। চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের কার্যকারিতা বাড়াতে চীনের বিভিন্ন গোপন ঘাঁটিতে ইতিমধ্যে অন্তত ২০০ রুশ সেনাকে আধুনিক ড্রোন চালনার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
বিনিময়ে রাশিয়া থেকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও রণকৌশল শিখছে বেইজিং। ভবিষ্যৎ তাইওয়ান সংকটের কথা মাথায় রেখে এবং নিজেদের সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত করতে চীনা সামরিক কর্মকর্তারা সরাসরি ইউক্রেন ফ্রন্টলাইনের যুদ্ধ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উচ্চতায় যেকোনো ধরনের ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে সক্ষম—এমন একটি অত্যাধুনিক ‘নেক্সট-জেনারেশন’ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যৌথভাবে তৈরি করবে মস্কো ও বেইজিং। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গোপন জোট আগামী দিনে বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
