জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইতিহাস বিভাগের ১৯ ব্যাচের দুটি নির্ধারিত ক্লাস বাতিল করে শিক্ষার্থীদের একটি রাজনৈতিক ভাবধারার সেমিনারে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সেমিনারে উপস্থিত থাকলে ক্লাসের অ্যাটেনডেন্স এবং অ্যাসাইনমেন্টের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও শিক্ষার্থীদের জানানো হয়। সম্প্রতি এমন একটি ভয়েস বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জবিতে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভয়েস বার্তা সূত্রে জানা যায়, ইতিহাস বিভাগের ২০১৯ ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধি (সিআর) শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ তাঁকে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশে বলা হয়, বুধবার সকালের নির্ধারিত দুটি ক্লাসের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত থাকতে হবে। সেখানে তথ্যমন্ত্রীসহ একাধিক বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত থাকবেন বলেও জানানো হয়।
ভয়েস বার্তায় আরও দাবি করা হয়, সেমিনারে উপস্থিত থাকলে দুটি কোর্সের অ্যাটেনডেন্স নিশ্চিত করার পাশাপাশি আলোচনার ওপর শিক্ষার্থীদের একটি বিশেষ অ্যাসাইনমেন্টও দেওয়া হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, ক্লাস বাদ দিয়ে রাজনৈতিক আদর্শের প্রোগ্রামে উপস্থিত হতে বাধ্য করা এবং অ্যাটেনডেন্স বা নম্বর কম দেওয়ার ভয় দেখানো একাডেমিক পরিবেশের চরম লঙ্ঘন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, তিনি অন্য শিক্ষকের ক্লাস বাতিল বা অ্যাটেনডেন্স দেওয়ার কোনো নির্দেশ দেননি। যেহেতু সেমিনারে তিনি মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন, তাই নিজের ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলেই শিক্ষার্থীদের গবেষণাধর্মী এই সেমিনারে উপস্থিত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
