রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনার মধ্যে বিদেশে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নেই।
বিদেশে অবস্থানকালে ছড়ানো খবরের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে স্পিকার জানান, তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে ছিলেন এবং এই পদত্যাগের খবরগুলো অন্যদের মতোই শুনেছেন। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও মেডিকেল চেকআপের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় দুদিন আগেই তিনি দেশে ফিরে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক ধারা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন যে, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারের উদ্দেশে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত পত্র জমা দিতে হয়। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন এবং সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়।
সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে কিংবা তাঁর পদ শূন্য হলে কিংবা দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে স্পিকারই সর্বোচ্চ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগেও এ ধরনের ঘটনা দেখা গেছে; ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মোট ৭৮ দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
