জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান অভিযোগ করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে (গ্রেড-২) ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি এ ধরনের নিয়োগকে নজিরবিহীন দলীয়করণ ও স্বৈরতান্ত্রিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর পল্টনে শফিউল আলম প্রধান মিলনায়তনে যুব জাগপা আয়োজিত ‘গণভোটের গণরায় অবমূল্যায়ন: জুলাইয়ের চেতনায় যুবসমাজের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ প্রধান বলেন, একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকে শীর্ষ আমলাতান্ত্রিক পদে বসানোর ঘটনা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তার দাবি, এই নিয়োগের মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিক নিয়োগ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতির সুযোগ বাড়াবে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের পথ তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তার ভাষ্য, বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের কর্মকাণ্ডে স্বৈরাচারী মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে।
রাশেদ প্রধান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে বিএনপি সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার থাকবে না। তিনি এ বিষয়ে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, ঢাকা মহানগর জাগপা সভাপতি এস এম জিয়াউল আনোয়ারসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, সরকারি নিয়োগ নিয়ে রাশেদ প্রধানের এসব বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
