ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের নতুন অভিযোগ তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির দাবি, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো বহাল রাখা ও তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক আদেশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে সরকার। সরকারের দেওয়া কথা অনুযায়ী অবিলম্বে সব মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আবারও ভারতজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু করার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে দায়ের হওয়া একাধিক আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ নির্দেশ দেন যে, অপরাধের রেকর্ড না থাকা এবং আটক হওয়া শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো জোরপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না এবং তাদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। তবে আদালত রাজ্য সরকারগুলোকে দায়ের করা এফআইআরের তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিজেপি।
মঙ্গল সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, গত ২৫ জুলাই সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহারের স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছিল এবং সেই প্রেক্ষিতেই আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলো আন্দোলনকারীদের হয়রানি করতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আদালতকে ব্যবহার করে আন্দোলন দমন করা যাবে না এবং সরকারকে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।
সোমবার ও মঙ্গলবার পর পর দু’দিন সরকারকে সময়সীমার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিজেপি নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে জানান, সব এফআইআর বাতিল ও আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি না দিলে রাজপথে পুনরায় আন্দোলন শুরু করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে গত ২০ জুন থেকে চলমান এই আন্দোলনের মুখে বিগত শনিবার তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং দাবিমতো সব মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলনের ইতি টেনেছিল সিজেপি।
