জামায়াত নেতা ও বিএনপি দলীয় প্রতিমন্ত্রীর ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত ভিডিওর ঘটনায় গণমাধ্যমের নীতিগত অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে মূলধারার গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী সমাজের দ্বিমুখী ভূমিকা পালনের অভিযোগে নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল পোস্টে অনেকে উল্লেখ করছেন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় গণমাধ্যম যেভাবে শত শত কলাম, ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং তথ্য ফাঁসকারীকে সাধুবাদ জানিয়েছে, বিএনপি দলীয় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের ক্ষেত্রে সেই একই গণমাধ্যম পুরো ভিন্ন ভূমিকা পালন করছে। প্রতিমন্ত্রীর বেলায় গণমাধ্যমকে ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা’ ও ‘মানবাধিকারের’ অজুহাত তুলতে দেখা গেছে। নেটিজেনদের মতে, নৈতিকতার বিচারে দুটি ঘটনাতেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হলেও গণমাধ্যমের প্রচারণায় স্পষ্ট রাজনৈতিক পক্ষপাত ফুটে উঠেছে।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর ঘনিষ্ঠ ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ওই নারীকে তিনি নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করে।
অন্যদিকে, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের বিএনপি নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে এক হিন্দু তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। যদিও প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভিডিওটিকে ভুয়া এবং অপপ্রচার বলে দাবি করা হয়েছে, তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ফ্যাক্ট-চেকিং বিশ্লেষণে ছবি ও ভিডিওতে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতের সত্যতা উঠে এসেছে। বিশেষ করে এক হিন্দু তরুণীর সঙ্গে বিএনপি দলীয় প্রতিমন্ত্রীর এমন আপত্তিকর চিত্র ফাঁসের ঘটনাটি রাজনীতির মাঠে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
