ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সম্প্রতি ঘটা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সূত্রপাত হলেও বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে মূল ঘটনা বিকৃত করে রাজনৈতিক তকমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্লেষকেরা।
সম্প্রতি জনৈক মিফতাহুল হোসাইন মারুফ তাঁর ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে লেখেন, চিকিৎসার কথা বলে কওমী মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী শহীদুল্লাহ হলের এজিএস কক্ষে সাময়িকভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন। কক্ষে কেউ না থাকার সুযোগে তাঁরা অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। তিনি উল্লেখ করেন, দূর-দূরান্ত থেকে পরিচিতজনদের সাহায্যার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান দেওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক হলেও এখানে কেবল দূরসম্পর্কের আত্মীয়তার সূত্র ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনীতি বা ‘শিবির কানেকশন’ টেনে আনা হচ্ছে।
একই প্রেক্ষাপটে মাস্টারদা সূর্য সেন হলের অপর একটি ঘটনার দিকে নির্দেশ করে তিনি জানান, সেখানেও একজন আবাসিক শিক্ষার্থী তাঁর পরিচিত একজনকে ডেকে এনে অনৈতিক কাজে জড়ান। কিন্তু প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক পক্ষগুলো বাস্তব চিত্র আড়াল করে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বিরোধী রাজনীতিকে হেয়প্রতিপন্ন করার হাতিয়ার হিসেবে এটিকে ব্যবহার করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয় যে সূর্য সেন হলে অনৈতিক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক ব্যক্তিরা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী বা নেতা। তবে সত্যসন্ধানী ফ্যাক্ট-চেক প্রতিষ্ঠান ‘বুম বাংলাদেশ’-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। প্রকৃত ঘটনা হলো— সূর্য সেন হলের ৩০৪ নম্বর কক্ষে উক্ত ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ওই হলের আবাসিক ছাত্র এবং অন্যজন তাঁর আমন্ত্রণে আসা বহিরাগত।
ঘটনার পরপরই হল প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁদের হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই আবাসিক ছাত্রকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। ঘটনার বিষয়ে মূলধারার কোনো গণমাধ্যম বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্তে আটককৃতদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে যুক্ত থাকার সত্যতা পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে ভুয়া তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
