ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলন ও সেমিনার আয়োজন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, যা একই সময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও সম্প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে।
‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শেখ হাসিনা ভারতে তাঁর আশ্রয় নেওয়া ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় মূল বক্তব্য পেশ করবেন। বক্তার তালিকায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নামও রয়েছে।
আয়োজনের অন্যান্য আলোচকদের পরিচয় নিয়েও নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক উঠেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ‘বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ নামক একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠনের মহাসচিব প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী এবং পরিচালক শাহ বখতিয়ার। আওয়ামী লীগ পন্থী হিসেবে পরিচিত এই সংগঠনটি ইতোপূর্বে ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলন করে শেখ হাসিনাকে পুনর্ধারক করার দাবি জানিয়েছিল।
বক্তাদের তালিকায় আরও আছেন সাবেক এনএসআই কর্মকর্তা ও সাবেক কূটনীতিবিদ আমিনুল হক এবং আওয়ামী সক্রিয়কর্মী হিসেবে পরিচিত আবু ওবায়ধা আরিন। ৫ আগস্টের মতো একটি সংবেদনশীল দিনে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ও গণহত্যা মামলায় অভিযুক্ত একজন পলাতক রাজনৈতিক নেতাকে ভারতের মাটিতে সংবাদ সম্মেলন বা প্রকাশ্য কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
