ভারতে অবস্থানরত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ বা নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সরকারের চলমান সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে সাপ্তাহিক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এ অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে জানান।
ব্রিফিংকালে এক সাংবাদিক তসলিমা নাসরিনকে ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, তসলিমা নাসরিন যদি নিজে নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে তাঁকে প্রচলিত আইনি বিধিবিধান ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে। পরবর্তীতে তাঁর করা আবেদনের বিষয়টি পর্যালোচনা করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সরকার।
উল্লেখ্য, বিতর্কিত নানা বক্তব্যের কারণে দুই দশকেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশে ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এরপর তিনি দীর্ঘদিন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এবং পরবর্তীতে ২০০৭ সালে সেখানে নতুন করে আন্দোলন দেখা দিলে নয়াদিল্লিতে বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক নানা পরিবর্তন এবং সেখানকার বিভিন্ন সামাজিক ও সাহিত্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকালে তিনি দেশে ফিরতে না পারার বিষয়ে নিজের আকুলতার কথা ব্যক্ত করেছিলেন।
অতীতে ঘটে যাওয়া নানা নিপীড়নের বিষয়ে তিনি বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন কি না—এমন এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, তসলিমা নাসরিন যদি দেশে ফিরে এসে আইনের শরণাপন্ন হতে চান, তবে তিনি সাধারণ নাগরিকের মতোই আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো নির্ধারিত তামাদি বা সময়ের বাধ্যবাধকতা না থাকায় ভুক্তভোগী হিসেবে অভিযোগ দাখিল করতে তাঁর কোনো আইনি বাধা থাকবে না।
