ভারতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের নীতিমালার পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও ভারতের সাম্প্রতিক ভূমিকা সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অনুরোধ সত্ত্বেও দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে অবস্থান ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। জামায়াতের মতে, এটি শুধু কূটনৈতিক রীতিনীতির লঙ্ঘনই নয়, বরং দুই দেশের বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির প্রতিও অবহেলার শামিল।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতার জন্যও ওই সরকার দায়ী। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানালেও ভারত সরকার তাতে সাড়া দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ভারত সরকারের উচিত বর্তমান অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা। একই সঙ্গে সরকারকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি এবং জাতিসংঘের সহযোগিতা নিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপিত হলেও শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার সফল হয়নি। এর ফলে তিনি বিদেশে অবস্থান করে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি দেশের জনগণকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থেকে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান জানান এবং ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
