বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সমস্ত রেকর্ড, পরিসংখ্যান এবং মাইলফলক ক্রিকেট ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার দাবি জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন খেলোয়াড়ের নাম থাকার কোনো অধিকার নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে সাকিবের নাম মুছে ফেলা হলে দেশের ক্রিকেট মোটেও নিঃস্ব হয়ে যাবে না। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন।
শফিকুল আলম তাঁর পোস্টে সাকিবের নৈতিকতা ও রাজনৈতিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, বর্ণবাদী শাসনের অংশ হওয়ার ‘অপরাধে’ ব্যারি রিচার্ডস, মাইক প্রোক্টরের মতো ক্রিকেট ইতিহাসের কিংবদন্তিদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল। অথচ তারা সাকিবের চেয়ে অনেক বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন এবং তাঁদের হাতে কোনো রক্ত কিংবা দুর্নীতির দাগ ছিল না। সেই তুলনায় সাকিবের অপরাধ আরও গুরুতর, কারণ তিনি প্রকাশ্যে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারীকে পূজা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, হয়তো কোনো একদিন বিসিবি সভাপতি হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে সাকিব একজন ‘হিটলারকে’ পূজা করেন এবং দেশে ফিরে একটি খুনি শাসনব্যবস্থাকে পুনর্বাসিত করার স্বপ্ন দেখেন। সাকিবের ‘ক্যাপ্টেন’ শেখ হাসিনার সংঘটিত গণহত্যার অপরাধগুলো জাতিসংঘের স্বাধীন অনুসন্ধান মিশন নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত করেছে। কিন্তু এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সাকিবের মধ্যে আজ পর্যন্ত কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি।
আমাদের দেশের ক্রিকেটে গণহত্যাকারীর পূজারীদের কোনো স্থান থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন শফিকুল আলম। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তাকারী এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের চাটুকারদের ক্রীড়া বীর হিসেবে দেশের মানুষের কোনো প্রয়োজন নেই। সাকিবের জানা উচিত যে, গণহত্যাকারীকে পূজা করে পৃথিবীর কোথাও কেউ এভাবে রেহাই পেতে পারে না।
পোস্টের শেষাংশে ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডির প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, বিডিআর সদর দফতরে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় কাবাডি, ভলিবল, বাস্কেটবল ও অ্যাথলেটিক্সের জাতীয় চ্যাম্পিয়নসহ বেশ কয়েকজন বিডিআর ক্রীড়াবিদকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দেশের আইনের চোখে অপরাধী হওয়ায় তাদের জন্য কেউ অশ্রুপাত করেনি কিংবা ক্ষমার আবেদন জানায়নি। ফলে সাকিবের ক্ষেত্রেও আইনের ব্যতিক্রম হওয়া উচিত নয়।
