চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র আপত্তির মুখে ৩৬তম সিনেট অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন না বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে মৌন মিছিলকারী আওয়ামীপন্থী ৮ বিতর্কিত শিক্ষক। শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে চাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে পাঠানো একটি খোলা চিঠি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।
৩৬তম সিনেট অধিবেশনটি আজই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে শনিবার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি নিশ্চিত করেন যে, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিতর্কিত ওই ৮ শিক্ষক অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন না বলে উপাচার্য তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে চাকসু নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা, গবেষণা ও নিরাপত্তার মানোন্নয়নসহ মোট ১৯ দফা দাবি সংবলিত একটি লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। লিখিত বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, সিনেট অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাঁচজন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও প্রশাসনের উদাসীনতায় দীর্ঘ দিন চাকসু নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চাকসুর উত্থাপিত ১৯ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো—আগামীতে নিয়মিত চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ করা, আবাসন সক্ষমতা ন্যূনতম ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা, আলাওল হল ও এ. এফ. রহমান হলের এক্সটেনশন ভবন নির্মাণ এবং আবাসন সুবিধাবঞ্চিত অন্তত ৩ হাজার শিক্ষার্থীকে আবাসন ভাতা প্রদান করা। এ ছাড়া যাতায়াত সংকট নিরসনে নতুন শাটল ট্রেন, অতিরিক্ত বগি সংযোজন ও শহরগামী অন্তত ১০টি নতুন বাস চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে টিএসসি, মুক্তমঞ্চ, কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম, আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারকে ৩০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার দাবিও রয়েছে এই তালিকায়। একই সাথে সেশনজট নিরসন, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসিটিভি স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে সিনেট নির্বাচন না হওয়া এবং আওয়ামীপন্থী ও মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সিনেট অধিবেশন আয়োজন করায় ক্যাম্পাস জুড়ে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। বিতর্কিত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ছাত্রদল ও চাকসু নেতৃবৃন্দ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করার পর শেষ পর্যন্ত প্রশাসন তাদের বাদ দিয়েই অধিবেশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।
