বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর উদ্বোধনের পূর্বেই বহুল আলোচিত ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ (সাবেক গণভবন)-এর মূল পরিকল্পনা ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী সেকশনে বড় ধরনের পরিবর্তন ও উপাদান বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জাদুঘরটির ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে তৈরি করা বেশ কিছু স্পর্শকাতর অংশ উদ্বোধনের আগেই পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে, জাদুঘরটি থেকে ‘বর্ডার কিলিং রুম’ নামে একটি সম্পূর্ণ সেকশন উধাও করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে ভারতীয় সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার বিভিন্ন আলামত ও রেকর্ড সংরক্ষিত ছিল। এর পাশাপাশি কাঁটাতারে ঝুলে থাকা সীমান্ত হত্যার শিকার বহুল আলোচিত ফেলানীর ভাস্কর্যটিও প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এ ছাড়া, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশটি জাদুঘর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মোদিবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস সম্বলিত গুরুত্বপূর্ণ সেকশনটিও পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে, বিগত সরকারের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (ডিএসএ)-এর মাধ্যমে নিপীড়নের শিকার ভিক্টিমদের আলামত ও ইতিহাসের সেকশনটি পূর্বের তুলনায় অনেক ছোট করে ফেলা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর মূল জাদুঘরের নিচের ফ্লোরটিকে কার্যত দলটির ‘নয়া পল্টন অফিস’-এর মতো রূপ দেওয়া হয়েছে। সেখানে দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ইতিহাসকে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে, যা দেখে মনে হতে পারে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে কেবল তারাই মাঠে আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থী, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির অবদানকে এভাবে সংকুচিত করায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, মিডিয়ার সামনে ভারতবিদ্বেষী কড়া বয়ান দেওয়া বিএনপির সালাউদ্দিনের মতো নেতারা যে আসলে পর্দার আড়ালে দিল্লির প্রতি আনুগত্যশীল, ফেলানীর ভাস্কর্য ও সীমান্ত হত্যার সেকশন সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে তা আবারও প্রমাণিত হলো। জাতীয় আন্দোলনের এই ঐতিহাসিক স্মৃতিশালাকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দলীয় কার্যালয় ও আদর্শিক সমঝোতার কেন্দ্রে রূপ দেওয়ায় সর্বস্তরে সমালোচনা চলছে।
