পাবনার বেড়া মডেল থানার একেবারে কাছেই অভিযান চালিয়ে গ্রেফতারের পর সোহেল রানা নামে এক নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন তাঁর সমর্থক ও স্থানীয় লোকজন। আজ শনিবার দুপুরে বেড়া মডেল থানার পাশে অবস্থিত কাগমাইরপাড়া স্টেডিয়াম এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে।
ছিনিয়ে নেওয়া সোহেল রানা বেড়া পৌর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে সুনির্দিষ্ট দুটি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) রয়েছে। তিনি বেড়া পৌরসভার শম্ভুপুর কাগমারি এলাকার মৃত আয়নুল হকের ছেলে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে গোপাল সংবাদের ভিত্তিতে বেড়া মডেল থানা পুলিশের একটি দল স্টেডিয়াম এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। তবে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই একদল লোক এসে পুলিশের পথরোধ করে এবং পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যুবলীগ নেতার সমর্থকরা তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
থানা সূত্র জানায়, উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানার যৌথ নেতৃত্বে পুলিশের দলটি এই অভিযান পরিচালনা করেছিল। আসামিকে থানায় নিয়ে আসার মুহূর্তে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও সোহেল রানার অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি শুরু হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরাস্ত করে আসামিকে মুক্ত করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে দুটি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু থানায় আনার পথে পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে তাঁর অনুসারীরা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ওসি আরও জানান, ছিনিয়ে নেওয়া আসামি সোহেল রানাকে পুনরায় গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক দল ইতিমধ্যে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাধা দিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণের ভিত্তিতে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
